সূরা তাওবার পাঁচ নম্বর আয়াতের উদ্দেশ্য কি?

 সূরা তাওবাহর ৫ নম্বর আয়াত নিয়ে যারা ইসলামকে আক্রমণ করেন, তারা আসলে ওই সময়ের প্রেক্ষাপটটা বুঝতেই চান না। তখনকার আরব সমাজে কী পরিমাণ অরাজকতা ছিল সেটা একবার ভাবুন! কাবা শরীফের মতো পবিত্র জায়গায় মানুষ ন&গ্ন হয়ে তওয়াফ করত—ভাবা যায় কতটা নিচু রুচির সমাজ ছিল সেটা?

ইসলাম কেবল ইবাদত শেখাতে আসেনি, সমাজকে সভ্য করতে এসেছিল। এই যে আয়াতটা, এটা কিন্তু ঢালাওভাবে সবার জন্য ছিল না। এটা ছিল সেই সব জালিমদের বিরুদ্ধে যারা বারবার শান্তি চুক্তি ভেঙে মুসলিমদের পিঠ প্রদর্শন করে আক্রমণ করত। আল্লাহ কিন্তু সরাসরি যুদ্ধের নির্দেশ দেননি, বরং তাদের ৪ মাস সময় দিয়েছিলেন নিজেদের শুধরে নেওয়ার জন্য।

মজার ব্যাপার হলো, যারা সমালোচনা করে তারা ৫ নম্বর আয়াতের প্রথম অংশটুকু বলেই থেমে যায়। অথচ তার পরের অংশেই বলা হয়েছে যে—তারা যদি তওবা করে ফিরে আসে তবে যেন তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এমনকি ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, কোনো শত্রু যদি আশ্রয় চায় তবে তাকে নিরাপদে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া মুসলিমদের দায়িত্ব।

তাই অর্ধেক পড়ে বা না বুঝে তর্কে নামার চেয়ে ইতিহাসটা জানা জরুরি। অসভ্যতা আর বিশ্বাসঘাতকতা রুখতেই ওই সময়ে আল্লাহ এই কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, যাতে একটা নিরাপদ ও রুচিশীল সমাজ তৈরি করা যায়।

★ ইসলাম আসার আগে জাহিলী যুগে মুশরিকরা পবিত্র কাবা ঘরের ভেতরে ন&গ্ন হয়ে তওয়াফ করত, যা ছিল চরম অসভ্যতা এবং নৈতিকতাহীন কাজ। ৯ম হিজরীতে এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ কেবল চুক্তিভঙ্গকারী বিশ্বাসঘাতকদের Ultimatum দেননি, বরং আরবের মাটি থেকে এই ন&গ্নতা এবং অসভ্য Culture কে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছিলেন। ইসলাম সেখানে কেবল ধর্ম নয়, বরং একটি সভ্য সমাজ কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছিল।


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন